ভার্চুয়াল ক্লাসে ভিন্নমত নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

১৬ জুলাই ২০২০, ০৫:২৭ পিএম


ভার্চুয়াল ক্লাসে ভিন্নমত নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে

ছবি- প্রতিদিনের চিত্র

 

করোনাভাইরাস সতর্কতা আর সামাজিক দূরত্বের জন্য বন্ধ দেশের সবধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। যথারীতি বন্ধ পাবলিক এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রকার ক্লাস পরীক্ষা। এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সেশনজট ঠেকাতে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান।

প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনলাইন ক্লাসের প্রক্রিয়া শুরু করলেও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাসের যৌক্তিকতা নিয়ে কথা উঠেছে নানা রকম।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় গত ৫  জুলাই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অনলাইন ক্লাস নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাই।তারপর হতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ক্লাস শুরো করে দিয়েছে। আর এ নিয়ে ফেইসবুক নানা রকম মন্তব্য প্রকাশ করছে শিক্ষার্থীরা।

ভার্চুয়াল ক্লাসের বিষয়ে জানতে চাইলে নৃবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আসিফ ইকবাল আরিফ বলেন,আমরা সবাই কঠিন একটা সময় পার করছি করোনার দিন গুলোতে। বাংলাদেশে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে দিন দিন।সেই সাথে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী- শিক্ষক, জাককানইবি পরিবারের সবাই রীতিমতো আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। এমতাবস্থায়,আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিভাগ আনঅফিশিয়ালি ক্লাস নিচ্ছে আগে থেকেই। গত ৫ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় নোটিশ দেওয়ার পর নতুন নতুন বিভাগ অনলাইন ক্লাসে যুক্ত হয়েছে। যেহেতু এই মহামারীর সমাপ্তি কবে নাগাদ হবে জানা নেই কারো।তবে আমার নৃবিজ্ঞান বিভাগে একাডেমিক মিটিং এর মধ্যেমে নোটিশের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জানানো হবে।যেহেতু বিকল্প কোন পথ নেই তাই আমিও অনলাইন ক্লাস নিবো।তবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী অসচ্ছল পরিবার।এজন্য আমারা নিদিষ্ট টপিক অনুযায়ী ভিডিও করে আপলোড করতে পারি। তাহলে শিক্ষার্থীর ইচ্ছে থাকলে দেখে নিবে।আর ডিভাইস এর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এখনো কোন বিজ্ঞপ্তি নেই। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইচ্ছে করলে বিভিন্ন কোম্পানি এর সাথে যোগাযোগ করে অসচ্ছল শিক্ষার্থীর জন্য ডিভাইস কেনার লোন এর ব্যবস্থা করতে পারে।শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা এই সুবিধা নিবে তারা প্রতি মাসে লোন পরিশোধ করতে পারবে।তবে আমি মনে করি যাদের ফাইনাল পরীক্ষা হয়েছে রেজাল্ট পেন্ডিং আছে এবং দুই -একটা পরীক্ষা পেন্ডিং আছে তা অনলাইনে সম্পূর্ণ করা উচিত।

অনলাইন ক্লাসের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের রয়েছে ভিন্ন মতঃ
থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী শাহীন হোসাইন সাজ্জাদ আকন্দ বলেন,বর্তমান এই বৈশ্বিক মহামারী পরিস্থিতিতে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল ধরণের ক্লাস পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে সেশনজট এড়ানো  জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মুঞ্জরী কমিশন ইতিমধ্যে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাশ কার্যক্রম  চালু করার পরামর্শ দিয়েছে। আমিও বলবো যে হ্যা বর্তমান পরিস্থিতিতে যেহেতু গণজমায়েতে স্বাস্থ্য ও জীবিনের ঝুঁকি রয়েছে সেক্ষেত্রে একমাত্র  অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমই পারে শিক্ষার্থীদেরকে পড়াশোনার সাথে যুক্ত রাখতে।বিশ্ববিদ্যালয় গুলার ৮৫% শিক্ষার্থীই আমরা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের।এবং অধিকাংশই আমরা টিউশনি নির্ভর। এখন সমস্যা হচ্ছে এই  মহামারীতে যেখানে খেয়ে পড়ে বাঁচাই দ্বায় হয়ে যাচ্ছে সেখানে মেগাবাইট কিনে অথবা ইন্টারনেট সংযোগ নিয়ে অনলাইনে ক্লাসে যুক্ত হওয়া সিংহভাগ  শিক্ষার্থীর পক্ষেই অসাধ্য হয়ে পড়বে। ugc এবং স্ব স্ব বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর উচিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্দিষ্ট এপ্সের মাধ্যমে  শিক্ষার্থীদের বিনা খরচে অনলাইন ক্লাসে যুক্ত করা ব্যবস্থা করা। অথবা কোর্স শিক্ষকরা উনাদের লেকচার গুলো ভিডিও ও pdf আকারে প্রকাশ করতে পারেন তাতে ইন্টারনেট খরচ কমবে এবং শিক্ষার্থী তার সুবিধামত সময়ে লেকচার গুলো আয়ত্তে নিতে  পারবে।নয়তোবা অনলাইন ক্লাস সহজতর না  করা হলে  অনলাইন ক্লাস তার কার্যকারীতা  হারাবে।

নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাবেকুন নাহার সিফা বলেন,অনলাইনে ক্লাস সম্পর্কে আমার মতামত হলো ক্লাস বন্ধ রাখা। কারণ এমন অনেক শিক্ষার্থী আছে যাদের স্মার্ট ফোন নেই , তাই তারা ক্লাস করতে পারবে না। আবার অনেক শিক্ষার্থী আর্থিক ভাবে অসচ্ছল ।যার‌ কারণে ইন্টারনেট ব্যবহার এর খরচ বহন করা তাদের পক্ষে কষ্টকর। তাছাড়া অনেকেই গ্রামে থাকে যেখাও নেটওয়ার্কের সমস্যা। প্রায় ৬০% শিক্ষার্থীদের এই সমস্যা। আবার অনেকে স্মার্ট ফোন কিনে দেয়ার জন্য পরিবারের উপর চাপ দিয়ে থাকে।  উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে , কিছুদিন আগে‌ অনলাইনে ক্লাস এর জন্য স্মার্ট ফোন কিনে না‌‌ দেয়ায় পঞ্চম শ্রেণীর এক ছাত্র ময়মনসিংহ থেকে পালিয়ে মুক্তাগাছায় চলে আসে। পরবর্তীতে বিডি ক্লীন‌ এর‌ সহায়তায় তাকে বাড়ি পাঠানো হয়। এরকম অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা ক্লাসে পিছিয়ে যাওয়ার ভয়ে মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এখন  ২০%  শিক্ষার্থীর সামর্থ্য থাকলেও অনেকে নানা ব্যস্ততা বা পারিবারিক কাজের জন্য ঠিক মতো ক্লাস করতে পারবে না। আবার বাকি ২০% শিক্ষার্থী বাবা মায়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করলে সেটা যে অনলাইন ক্লাসের জন্য ব্যবহার করবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। এই সব দিক বিবেচনা করলে অনলাইনে ক্লাস বন্ধ রাখাই শ্রেয় মনে করি। আর শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে একটা নির্দিষ্ট সিলেবাস দিয়ে দিলে সবাই নিজ নিজ সময় সুযোগ মতো পড়তে পারবে। যদিও লেকচার এটেন্ড করা ছাড়া পড়া গুলো বুঝতে পারা একটু কষ্টকর। কিন্তু লকডাউনের এই সময় টা কে কাজে লাগিয়ে নিজে একটু চেষ্টা করলেই বুঝতে পারা সম্ভব বলে আমি মনে করি।

বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেন, অনলাইন ক্লাস হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে কমিনিউকেশনের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। কিছুটা হলেও পড়াশোনা চর্চা হবে। আর এই মহামারী কবে নাগাদ শেষ হয় তা জানা নেই কারো তাই একবারে না করার চেয়ে অনলাইন ক্লাস হলে ভালো। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নিজস্ব বিভাগ গুলো অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সকল কিছু দিয়ে পাশে থাকবে । আর ১০০% শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিশ্চিত করা দাবি জানায়।

Ads