জামালপুরে স্বাভাবিক মৃত্যুর নাটকে মিথ্যা মামলার হুমকি
২৪ আগস্ট ২০২০, ০৫:১৪ পিএম
ছবি- প্রতিদিনের চিত্র
জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার গুনারীতলা ইউনিয়নের জোনাইল নয়া পাড়া গ্রামের আলমগীর গত ৬ আগষ্ট স্বাভাবিক অবস্থায় নিজ বাড়ীতে মৃত্যু হলেও মৃতব্যক্তির স্ত্রীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার লাশ ময়না তদন্ত করা হয়েছে। নিহতের মা নুরজাহান বাদীর গংরা তাদের স্থানীয় আত্মীয় স্বজনের মধ্যে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে একটি সাজানো নাটক হত্যা মামলা দায়ের অপচেষ্টায় লিপ্ত,স্বাভাবিক মৃত্যুর ওই ব্যক্তির লাশ ময়না তদন্ত করিয়েছেন বলে এলাকাবাসীর মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে । এ নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে ষড়যন্ত্রমূলক হত্যা মামলার আসামী হওয়ার আতঙ্কসহ নানা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়েছে।
জামালপুর জেনারেল হসপিটালের মর্গে স্বাভাবিক নিহতের লাশ ময়না তদন্তের বিভ্রান্তি প্রসঙ্গে বিস্তারিত জানতে গত ২৩ আগষ্ট বিকালে মাদারগঞ্জের জোনাইল নয়া পড়া গ্রামে সরেজমিনে গেলে ওই গ্রামের কৃষক রসুল উদ্দীন, আব্দুল জলিল, তহুরা বেগম, স্থানীয় অনেকের সাথেই কথা হয়। ওই সময় স্থানীয়রা জানান, নয়াপাড়া গ্রামের রশিদের মা রৌশনারা নাতি শাকিলের কাছে টাকা চাইতে গেলে গত ৫ আগষ্ট একই গ্রামের আলমগীরের মা জাহানারার সাথে প্রথমে বাকবিতন্ডা এবং পরে দিন ৬ আগষ্ট উভয় পক্ষের মহিলাদের মাঝে হাতাহাতি হয়।ওই সংঘর্ষে কেউ আহত হয়নি এমন সময় আলমগীর ঘর থেকে বেরহলে মাথা ঘুরে মাটিতে পড়ে যায়,প্রতিবেশী জালাল ফকির,তহুরা,জয়নাল দেখতে পেয়ে দূতগতিতে ঘরে নিয়ে যায় পরে হাত পা সব ঠান্ডা হয়ে গেলে।অতপর তৈল মালিশ করতে থাকলে কিছুক্ষন পর আলমগীরের মৃত্যু হয়। এ ঘটনা নিয়ে নূর হকের স্ত্রী জাহানারা বেগেম বাদী হয়ে ঘটনার ১৮-২০ দিন পর রশিদের গংদের বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা মামলা করার পায়তারা চালাচ্ছে।একপর্যায়ে আসামী আব্দুর রশিদ জাহানারার নিকট আত্মীয় বেয়াই বটে।নূর হকের স্ত্রী জাহানারা বেগম মেয়ে লাবনী প্রায় দুই বছর আগে রশিদের ছেলে শাকিলের সাথে প্রেমের সম্পর্কে ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়।পরে লাবনীর বাবা নূর হক ও স্ত্রী জাহানারা বেগম এ বিয়ে মানতে বাধ্য নয়।একপর্যায়ে বিরোধ চলে আসছিল এরই সূত্র ধরে প্রতিপক্ষ আব্দুর রশিদ গংদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতে পরিকল্পিতভাবে আব্দুর রশিদ, জালাল ফকির, জয়নাল, আনেছা, রৌশনারা, সুমি, মনিকা, শাহানাকে মারধোরের মিথ্যা অভিযোগে মাদারগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করতে গেলে প্রমাণ না মামলা দায়ের হয়নি । ঐ দিনই বাদী নূরজাহান ও তার স্বামী নূর হক জোরকরেই আলমগীরের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে মর্গে নিয়ে ময়না তদন্ত শেষে বাড়ীর পাশে লাশের সম্পন্ন হয়। এরপর থেকেই জাহানারা বেগম গংরা তাদের স্থানীয় প্রতিপক্ষ আব্দুর রশিদ গংদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে এলাকাবাসীর মুখে মুখে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে। এলাকায় শান্তি প্রিয় মানুষের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে।
এ ব্যাপারে জোনাইল নয়পাড়া ওয়ার্ডে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য দুলা জানান, আমি সংঘর্ষ দেখিনি শুনেছি হাতাহাতি হয়েছে। নয়াপাড়া গ্রামের দিন মজুর নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক তিনি বলেন, জাহানারা বেগম ও স্বামী নূর হক প্রতিদিন নাটক করতে থাকে প্রতিবেশীরা অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। আলমগীরকে কেউ আঘাত করেনি। স্ট্রোক এ মারা গেছে।
মাদারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম জানান সহকারী পুলিশ সুপার স্যারসহ ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে ছিলাম। আঘাতে চিহ্ন না থাকায় মামলা করা হয়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।























