অতিরিক্ত অর্থের লোভে নিম্নমানের জিনিস দিয়ে অবৈধ ভবন নির্মাণ

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

২৯ মার্চ ২০২১, ০৪:৪০ পিএম


অতিরিক্ত অর্থের লোভে নিম্নমানের জিনিস দিয়ে অবৈধ ভবন নির্মাণ

ছবি- প্রতিদিনের চিত্র।

 

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) আশেপাশের কিছু জমি বিশ্ববিদ্যালয় অধিগ্রহণ করবে এরকম আভাস পাওয়া মাত্রই জমির মালিকেরা উঠেপড়ে লেগেছে সেই জমিতে দ্রুত ভবন বানিয়ে ফেলতে। কেননা, জমির জন্য নির্দিষ্ট একটা মূল্যের পাশাপাশি ভবন বা দালানের ক্ষতিপূরণস্বরুপ বিশাল অঙ্কের টাকা পাওয়া যাবে।

 

২০১৮ সাল থেকেই  বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের জমিগুলোতে শুরু হয় এরকম অনৈতিক কর্মকাণ্ড। এসব নির্মাণকাজে অধিক অর্থলাভের জন্য এবং দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য নিম্নমানের ইট-বালু-সিমেন্ট দিয়ে কাজ করানো হয় বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক এলাকাবাসী।  

 

তবে এ ব্যাপারে কোনো কথা বলতে রাজি হননি জমির মালিকেরা। বেশ কয়েকজন জমি মালিক বলেছেন, 'টাকা বা এরকম খারাপ কোনো চিন্তা আমাদের মাথায় নাই। শিক্ষার্থীদের হল সংকট। তাই আমি বড় মেস দিচ্ছি।'

 

স্থানীয় রুবেল হোসেন জানান, 'তিন নম্বর ইট দিয়ে কাজ করানো হয়। ভার্সিটি এইসব জমি অধিগ্রহণ করবে জেনেই এইরকম কাজ করে।' তিনি আরো বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশেই এক ব্যক্তি ছয় কাঠা জমিতে কোনোরকমে কিছু দালান তুলেছে। শুধু জমি থাকলে তিনি পেতেন ১ কোটি টাকা। কিন্তু এখন  ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য দিক বিবেচনায় তিনি পাবেন প্রায় সাড়ে ৯ কোটি টাকা।'

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ নিয়ে সবসময়ই একটা ক্ষোভ লক্ষ্য করা যায়। পপুলেশন সাইন্স বিভাগের যায়িদ সাদ নামে এক শিক্ষার্থী জানান, জমি অধিগ্রহনের  খবর পেয়ে জমির মালিকরা যত্রতত্র ভবন নির্মান করছে বেশি টাকার আশায়। এর ফলে  জমির মালিকরা লাভবান হচ্ছে আর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়। ভবন থাকার কারনে বিশ্ববিদ্যালয়কে অতিরিক্ত বিশাল অঙ্কের টাকা ব্যয় করে জমি অধিগ্রহণ করতে হচ্ছে।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার (আইন) মাহবুবুর রহমান বলেন, 'এভাবে বাড়িঘর তৈরি শুধুমাত্র বেশি টাকার আশায়। এটাকে জমির উন্নতি সাধন বলা যায় না। দেশের আইনে এটা একটা অবৈধ কাজ।'

 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দফতরের পরিচালক প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান বলেন, 'আপাতত জমি অধিগ্রহণের কোনো পরিকল্পনা নেই। পরবর্তীতে জমি ক্রয় করলে বিশ্ববিদ্যালয় এই জমিগুলো নিবে না। এতে দৃষ্টিকটু দেখালে দেখাবে।'


তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, '১৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। যারা বিভিন্ন দালানকোঠা বানাচ্ছেন তারা কাজটা ঠিক করছেন না। তারা যাই করুক, পতিত জমির মূল্য অনুযায়ীই তারা মূল্য পাবেন। অতিরিক্ত কোনো মূল্য তাদের দেয়া হবে না।'


গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হবে কি না জানতে চাইলে উপাচার্য বলেন, 'এ ব্যাপারে বিভাগীয় কমিশনারের সাথে কথা বলে সিদ্ধান্তে আসবো।'


ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার মো. কামরুল হাসান এনডিসি বলেন, 'এ বিষয়টি আমার জানা নেই। এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া যায় কি না আমরা দেখবো।'

Ads