১৭তম বছরে সার্বভৌমত্বের প্রতীক সীমানা প্রাচীর দৃশ্যমান

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

০৫ জুন ২০২২, ০৮:৪০ পিএম


১৭তম বছরে সার্বভৌমত্বের প্রতীক সীমানা প্রাচীর দৃশ্যমান

ছবি- প্রতিদিনেরচিত্র বিডি।


জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১৭ তম বছরে দৃশ্যমান হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর। সীমানা প্রাচীর যেকোনো স্থাপনার নিজস্ব স্বত্ত্বা বহন করে। শুধু তাই নয় নিরাপত্তা দিতেও সীমানা প্রাচীরের বিকল্প নেই। অথচ ২০০৬ সালে জাতীয় কবির নামে প্রতিষ্ঠিত দেশের অনন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এতোদিন ছিলো না কোনো সীমানা প্রাচীর। বিভিন্ন সময়ে আলোচনার শীর্ষে থাকলেও দৃশ্যমান হতে দেখা যায় নাই। অবশেষে চলতি বছরের মার্চের মাসের ৩১ তারিখ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে শুরু হয় সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ। ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখর দে। সাথে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন অনুষদের ডীন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অনেকে।

 

উদ্বোধনকালে উপাচার্য বলেন, "শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। সীমানা প্রাচীর না থাকায় ক্লাসরুম, বিশ্ববিদ্যালয় আঙিনা, আবাসিক হল ইত্যাদি থেকে বেশ কিছু চুরির ঘটনা ঘটেছে। তাই সুউচ্চ সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে।" জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যে অবদানের কথা স্মরণ করে সৌমিত্র শেখর আরো বলেন, "জাতীয় কবির স্মৃতি বিজড়িত এই ক্যাম্পাসকে স্মার্ট ক্যাম্পাস হিসেবে রুপান্তর করতে সকল পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।"

 

সীমানা প্রাচীর না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিলো দীর্ঘদিনের ক্ষোভ। সে বিষয়ে জানতে চাইলে দৈনিক প্রতিদিনের চিত্রকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সামিয়া জামান বলেন, "একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার্থে সীমানা প্রাচীর অপরিহার্য। দুঃখজনক হলেও সত্যি,  বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১৭ বছরেও কোনো সীমানা প্রাচীর তৈরি হয় নি। যার ফলস্বরূপ স্থানীয় এবং বহিরাগতদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ, বিশৃঙ্খলা, অনৈতিক কর্মকান্ডে বিভিন্নভাবে নষ্ট হয়েছে শিক্ষার পরিবেশ এবং দূর্ভোগ পোহাতে হয় সাধারণ শিক্ষার্থীদের।" তবে ১৭ তম বছরে হলেও সীমানা প্রাচীর দৃশ্যমান হওয়াতে আশার আলো ও উচ্ছাস প্রকাশ করেছন সাধারণ শিক্ষার্থী। সেই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে অনেকেই বলেছেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ বছর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে মাননীয় উপাচার্য ড. সৌমিত্র শেখর স্যারের অবদানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর দৃশ্যমান হয়েছে। যা সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের, স্বস্তির এবং গর্বের।"

 

উল্লেখ্য যে, পুরো ক্যাম্পাস সীমানা প্রাচীরের বেষ্টনীতে আবদ্ধ না হলেও দৃশ্যমান হওয়ার আনন্দে বিমোহিত জাতীয় কবির স্মৃতি বিজড়িত প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা। সেই সাথে দ্রুতই কাজ সমাপ্ত করার অনুরোধ তাদের।

Ads