বিদেশিদের খুনের ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক : বিএনপি
০৩ অক্টোবর ২০১৫, ০৯:২৪ পিএম
ছবি-সংগৃহীত
শনিবার সকালে নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির বর্তমান মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন গত কয়েক দিনে দেশে দুই বিদেশি নাগরিক খুনের ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক। তিনি বলেন বর্তমান শাসকদল দেশে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছে।
আজ জাপানি এক নাগরিককে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় গুলি করে হত্যা করেছিল সন্ত্রাসীরা। গত ৫ দিন আগে সোমবার ঢাকার গুলশানে এক ইতালীয় নাগরিককে গুলি করে হত্যার করা হয়। এই নিয়ে ২ জন বিদেশী নাগরিকের মৃত্যু হলো।
শনিবার সকালে নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির বর্তমান মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, খুনী যেই হোক আমরা এসব ঘটনার মূল দোষীদের ধরে বিচারের আওতায় এনে কঠিন শাস্তি প্রদানের দাবি জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, মানুষ এখন ঘরে-বাইরে আর কোনোভাবেই নিরাপদ বোধ করছে না। বিনা ভোটের মাধ্যমে শাসকদলের ক্যাডাররা সারাদেশে যেভাবে তাণ্ডব ও নৈরাজ্য বিস্তার করছে তাতে এখন মায়ের পেটের শিশু যেমন নিরাপদ থাকেনি, সাধারণ মানুষসহ অবুঝ শিশুরাও তাদের সন্ত্রাসের শিকারে পরিণত হচ্ছে।
শুক্রবার বিনা ভোটের এক এমপি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে প্রত্যুষে পাখি শিকারের মতো গুলি করে এক শিশুকে পঙ্গু করে দিয়েছে। সুন্দরগঞ্জের ঐ এমপিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছে আমাদের দল।
তিনি বলেন, দেশে সুশাসনের কোনো বালাই নেই, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অসহায় হয়ে পড়েছে। অপরদিকে সরকার বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনে সারাদেশে ব্যাপক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে চলেছে এবং ক্রমেই একদলীয়-কর্তৃত্ত্ববাদী শাসনব্যবস্থাকে পাকাপোক্ত করার পথে অগ্রসর হচ্ছে।
রিপন বলেন, আমাদের দল পূণর্গঠনের প্রক্রিয়ায় সারাদেশে জেলা পর্যায়ে যে কাউন্সিল অনুষ্ঠানের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে- তাকে বাধাগ্রস্থ করার জন্য সরকার আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও দলীয় ক্যাডারদের নির্বিচারে ব্যবহার করছে।
তিনি বলেন, এই সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোনো নৈতিক ভিত্তি নেই। এই কারণে আমরা অবিলম্বে সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে একটি নতুন নির্বাচনের আয়োজনের পথকে সুগম করে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি দ্রুত নির্বাচন দিয়ে প্রকৃত জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা নতুন একটি সংসদ গঠনের প্রক্রিয়া শুরুর আহ্বান জানাই।
তিনি বলেন, ২০১৯ সালের পূর্বে নির্বাচন নয়- এ কথা প্রধানমন্ত্রীর বলার পর শাসকদলের দুর্বৃত্তরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আমরা বলতে চাই-শাসকদলের বেপরোয়া সন্ত্রাসে জনগণের জীবনে আজ নাভিশ্বাস উঠেছে। এর ফল শুভ নয়।
রিপন বলেন, আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি যে, সরকারের মন্ত্রী ও সরকার ঘনিষ্ঠ কিছু ব্যবসায়ীর মালিকানাধীন প্রচারমাধ্যম-বিরোধী দলের দেয়া বক্তব্য-বিবৃতি বিকৃত করে প্রকাশ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। অর্থাৎ আমরা যা বলছিনা-তা তারা নিজেদের মনের মাধুরি মিশিয়ে ভিন্নভাবে প্রচার করছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানাউল্লা মিয়া, সহ দপ্তর সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম, সহ স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।



































