‘এক নেতার এক পদ’ সিদ্ধান্তে অনড় খালেদা

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

১৫ মার্চ ২০১৬, ০৪:৪২ পিএম


‘এক নেতার এক পদ’ সিদ্ধান্তে অনড় খালেদা

প্রতিদিনের চিত্র ডেস্ক :: ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলের পর থেকে একসঙ্গে তিনটি পদে দায়িত্ব পালন করছেন ফখরুল। অধিকন্তু সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদটিও রয়েছে তার কব্জায়।
 
শুধু মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নন, বিএনপির অসংখ্য নেতা একাধিক পদ আঁকড়ে আছেন। একাধারে কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদ, অঙ্গ সংগঠন ও জেলা বিএনপির সভাপতি-সেক্রেটারির পদও রয়েছে তাদের দখলে।
 
বৃহৎ এ রাজনৈতিক দলটির লোভনীয় পদগুলো মুষ্টিমেয় কয়েকজন নেতার মুঠোবন্দি হয়ে পড়েছে। ফলে যোগ্য অনেক নেতাই পাচ্ছেন না তাদের কাঙ্ক্ষিত পদ। তৈরি হচ্ছে না নতুন নেতৃত্ব।
 
আসন্ন জাতীয় কাউন্সিলে এই সমস্যার যৌক্তিক একটা সমাধান করতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। কাউন্সিলের পর এক নেতা একাধিক পদে থাকার সুযোগ আর পাচ্ছেন না।
 
সূত্রমতে, এবারের কাউন্সিলে বিএনপির গঠনতন্ত্রের পরিবর্তন করে ‘এক নেতার এক পদ’ ধারাটি যুক্ত করা হচ্ছে। গঠনতন্ত্রে এই ধারাটি যুক্ত হওয়ার পর কেন্দ্রীয় কমিটিতে থাকা ৩৫০ কর্মকর্তা বিএনপির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কোনো পদে থাকতে পারবেন না। মহানগর, জেলা, উপজেলা, থানা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটিতে আর কেউ পদ পাবেন না।
 
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশি সংখ্যক নেতাকে সুযোগ করে দেওয়ার জন্য দলের পদগুলো কয়েক জনের হাতে ন্যাস্ত না রেখে যোগ্য ও সক্রিয়দের মধ্যে ভাগ করে দিতে চান খালেদা জিয়া। শীর্ষ নেতাদের বড় একটি অংশ নাখোশ হলেও  নিজের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন খালেদা জিয়া।
 
সূত্রমতে, সদ্য কারামুক্ত এক নেতা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে এসে নিজের পরিচয় দেন, আমি জাতীয়তাবাদী অমুক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক, অমুক দলের সেক্রেটারি, অমুক দলের সহ-সভাপতি ইত্যাদি ইত্যাদি।
 
খালেদা জিয়া ওই নেতাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, আপনি একাই যদি সব করেন, অন্যরা কী করবে? এবারের কাউন্সিলে এই নিয়ম করে দেব, এক নেতা একাধিক পদে থাকতে পারবেন না।
 
জানা গেছে, খালেদা জিয়ার এই সিদ্ধান্তে একাধিক পদধারী নেতারা অসন্তুষ্ট হলেও দলের বেশিরভাগ শীর্ষ নেতাই তার এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলছেন, মুষ্টিমেয় কয়েকজন নেতার হাতে নেতৃত্ব থাকলে নতুন নেতৃত্ব গড়ে উঠবে না। রাজনীতিবিদরা বিএনপি করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।
 
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, সবাইকে সুযোগ করে দেওয়ার জন্য এটি একটা ভাল সিদ্ধান্ত। এখন দেখা যাক, কাউন্সিলররা এই সিদ্ধান্তের পক্ষে রায় দেন কি না। কাউন্সিলরদের মতামতের ভিত্তিতেই বিএনপির চেয়ারপারসন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

Ads