প্রতিবন্ধী পরিবারের একমাত্র ভরসা স্কুলছাত্রী সুখী

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

১১ জানুয়ারি ২০২০, ১১:২২ পিএম


প্রতিবন্ধী পরিবারের একমাত্র ভরসা স্কুলছাত্রী সুখী

প্রতিবন্ধী পরিবারের একমাত্র ভরসা স্কুলছাত্রী সুখী

ছয় বছর বয়সেই হারিয়েছে বাবাকে। বাক প্রতিবন্ধী মা, শারিরীক প্রতিবন্ধী নানি আর মানসিক প্রতিবন্ধী ছোট ভাইকে নিয়েই ১২ বছর বয়সেই অন্যের বাড়িতে ঝি এর কাজ করে সংসারের হাল ধরেছে সুখী। এখানেই শেষ নয়। বাধা বিপত্তিকে অতিক্রম করে নানা সমস্যার মধ্যেও চালিয়ে যাচ্ছে লেখাপড়া। বর্তমানে সে ঠাকুরগাঁও গোয়ালপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী। এবারের চলমান শৈত্যপ্রবাহে তার পরিবার পায়নি একটিও কম্বল।

জানাযায়, সুখী আক্তারের বয়স যখন ছয়, তখনই দূরারোগ্য রোগে মারা যায় তার বাবা। মা শিউলি আক্তার (৪৬) বাক প্রতিবন্ধী হওয়ার পরও এক সময় মানুষের\ বাসা বাড়িতে কাজ করলেও অসুস্থ্যতার কারনে বর্তমানে তিনি পরে রয়েছেন নিজ বাসাতেই। অপরদিকে শারিরীক প্রতিবন্ধী নানি হামিদা বেওয়া (৭৫) আর মানসিক প্রতিবন্ধী ছোট ভাই সাইফুল (৮) এর ভরন পোষনের দায়িত্ব এসে পরেছে সুখীর কাঁধে।

তাই চার সদস্যের পরিবারের দুবেলা দুমুঠো খাবারের সন্ধানে লেখাপড়ার পাশাপাশি প্রতিবেশীদের বাসায় ঝি এর কাজ করতে হচ্ছে তাকে। সুখী আক্তার জানান, সকাল ৬ টা থেকে সাড়ে ৯ টা পর্যন্ত কাজ করি অন্যের বাসায়। ১০ টার সময় স্কুলে যাই। বিকেলে ফিরে আবারো কাজ করতে চলে যাই অন্যের বাসায়।

সে কাজ চলে রাত ১০ টা পর্যন্ত। অন্যের বাসায় কাজ করে যে খাবার টুকু পাই, রাতে বাসায় ফিরে সেটাই ভাগ করে খাই সবাইমিলে। এছাড়াও মাস শেষে কাজের যে পারিশ্রমিক পাই তা দিয়ে পরিবারের সদস্যদের সব চাহিদা মেটানো সম্ভব হয়ে ওঠেনা । কখনোও কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেনি। প্রচন্ড এ শীতে একটা কম্বলও পাইনি আমরা।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সহ যেসব জায়গাতে গিয়েছি সাহায্যের জন্য, খালি হাতেই ফিরতে হয়েছে আমাকে। এত কষ্টের মাঝেও তাই লেখাপড়াটা চালিয়ে যাচ্ছি ভালো কিছু করার আশায়। কিন্তু উপ বৃত্তিটুকুও পাইনা আমি প্রধান শিক্ষক খাশিরুল ইসলাম জানান, সুখী আমার স্কুলের নবম শ্রেণীর একজন মেধাবী ছাত্রী। সে কষ্ট করে লেখাপড়া করে জানতাম। তবে অন্যের বাসায় কাজ করে সংসার চালায় আর পাশাপাশি লেখাপড়াটাও চালিয়ে যাচ্ছে এটা জানতাম না। আমরা তাকে স্কুলের পক্ষ থেকে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করবো।

এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, পৌর এলাকা আমার আয়ত্বের মধ্যে পরেনা। তবে তার জন্যে কিছু করার ব্যাপারটা আমি ভেবে দেখবো।

Ads