অনুমোদনহীন ফার্মেসীতে সয়লাব লালমনিরহাট

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

২৭ জানুয়ারি ২০২০, ১০:৩৩ পিএম


অনুমোদনহীন ফার্মেসীতে সয়লাব লালমনিরহাট

ছবি-সংগৃহীত

লালমনিরহাট জেলায় জোয়ারের পানির মত বেড়ে চলছে ফার্মেসী দোকান। সরকারী কোন প্রকার নিয়ম নীতিকে তোয়াক্কা না করে দেদারছে জাঁকযমক ব্যবসা চালাচ্ছে ঔষধ বিক্রেতারা। নিজেরাই হয়ে গেছেন সবচেয়ে বড় মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ!

লালমনিরহাট জেলার হাটবাজারগুলোতে সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, অদ্ভুত চিত্রের সমারোহ। হাটবাজার ও রাস্তার মোড়ে মোড়ে ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠেছে ছোট বড় ঔষধের দোকান। সরকারের সব নিয়মনীতিকে জলাঞ্জলী দিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের অনন্য লীলাখেলায় মেতে উঠেছে ঔষধ বিক্রেতারা।

এসব দোকানে দেশী, বিদেশী, বৈধ, অবৈধ সবধরনের ঔষধ পাওয়া যায়, বিভিন্ন প্রকার রোগ ও ঔষধ সম্পর্কে নুন্যতম ধারনা না থাকলেও এরা সব রোগের ঔষধ দিয়ে থাকে।

রেজিষ্টার্ড চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রের উল্লেখিত নির্দিষ্ট কোন ঔষধ না থাকলেও তারা তাদের মন গড়াভাবে নিম্নমানের ও রেজিষ্ট্রেশন বিহীন কোম্পানির ঔষধ প্রদান করে থাকে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানে অধ্যায়ন না করেও নিজেদের ধারনা মোতাবেক সবধরনের রোগের ঔষধসহ উচ্চমানের এন্টিবায়োটিক প্রদান করে জনস্বাস্থ্য ও জনজীবনকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে এই ঔষধ বিক্রেতারা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে যে, অত্র জেলার শতকরা ৯০% ফার্মেসী/ঔষধ বিক্রেতার কোন একাডেমিক সার্টিফিকেট নাই, নাই কোন প্রকার L.M.A.F ও M.C.H প্রশিক্ষন। নূন্যতম ফার্মাসিস্ট সনদপত্রও তাদের নাই।
অনেকেই কয়েকদিন ঔষধের দোকানে কর্মচারী থাকার পরেই নিজেরাই হয়ে যাচ্ছেন ফার্মেসির মালীক ও সবজান্তা ডাঃ।

ড্রাগ লাইসেন্স তো দূরের কথা, ইউপি পরিষদ থেকে নুন্যতম ট্রেড লাইসেন্সও নাই তাদের।

এসব দোকানে ঔষধ রাখার মত অত্যাধুনিক কোন সরঞ্জাম ও ঔষধের গুনগতমান সঠিক রাখার জন্য রেফ্রিজারেটর সহ অত্যাধুনিক কোন ব্যবস্থা না থাকলেও ভ্যাকসিন, ইনসুলিনসহ অত্যাধিক গুরুত্বপুর্ন ঔষধ তারা সবসময়ই বিক্রি করে থাকে।

ঔষধ বিক্রেতাদের খামখেয়ালীর কারনে জনসাধারনরা যেমনি নকল ঔষধ কিনে প্রতারিত হচ্ছে, অন্যদিকে তাদের ভুল চিকিৎসার কারনে, সর্বসাধারনগণ বিভিন্ন অজানা রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেকেরই অকাল মৃত্যু হচ্ছে।

ফার্মেসী ব্যবসায়ীরা সংগঠনের দোহাই দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় ঔষধগুলোর কৃত্রিম সংকট তৈরিকরে অত্যান্ত চড়া দামে বিক্রি করছে এবং গ্রামের সহজ সরল মানুষদেরকে নিম্নমানের ঔষধ কিনতে বাধ্য করছে।

এসব ব্যাপারে কয়েকজন রেজিস্টার্ডপ্রাপ্ত(নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) ডাঃ সাথে কথা হলে তারা জানান যে, স্বাস্থ্যবিভাগের নজরদারী না থাকায় ও প্রশাসনের নীরবতার কারনে এ অবস্থা দিন দিন বেড়ে মহামারীর আকার ধারন করছে।
শুধু তাই নয় বর্তমানে গ্রাম গন্জের রাস্তার মোড়ের চা-পানের দোকানেও সবধরনের ঔষধ বিক্রি হচ্ছে। দেখার যেন কেও নেই।

জাতীর সুস্বাস্থ্য রক্ষায় এসব ভুয়া চিকিৎসা সেবা বাতিল ও ড্রাগলাইসেন্স বিহীন অবৈধ ফার্মেসী বন্ধে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুনজর কামনা করছে সর্বসাধারণগণ।

Ads