পীরগঞ্জে গ্রেফতার আতঙ্কে কয়েক হাজার পুরুষ 

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:৩৭ পিএম


পীরগঞ্জে গ্রেফতার আতঙ্কে কয়েক হাজার পুরুষ 

স্বজন হারানো পরিবারের আহাজারী

 

ত ২৮ নভেম্বর তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে সহিংসতার ঘটনায় বিজিবির ছোড়া গুলিতে ঘিডোব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র এলাকায় তিনজনের মৃত্যু হয়। সে থেকেই গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। শোক সামলে উঠার আগেই মামলার কারণে পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে গ্রামটি।

 

গত সোমবার ঘিডোব গ্রামের অজ্ঞাতনামা প্রায় ৬ থেকে ৭ শত জনকে আসামি করে একটি সহিংসতার মামলা করেছে ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ থানা পুলিশ। এই মামলার কারণে গ্রেপ্তার আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছে ঘিডোব গ্রামের পুরুষেরা। এতেকরে প্রায় পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে গ্রামটি।

 

মামলা হওয়ার পর ঘিডোব গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ঘিডোব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেয়ালে দেয়ালে গুলির ছিদ্র আর রক্তের চিহ্ন। কেন্দ্রর আশপাশের এলাকা এখনো থমথমে।

 

অপরিচিত মানুষ দেখলেই ভয়ে সরে যেতে চাইছে এলাকার লোকজন। গ্রামের চারদিকে ঘুরে দেখা যায়, গ্রামে প্রবীণরা ছাড়া অন্য পুরুষ নেই বললেই চলে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী জানান, ঘিডোব শান্ত প্রকৃতির একটি গ্রাম ছিলো। কিন্তু ভোটের সঠিক ফলাফলের দাবি করাই আমাদের হয়তো ভুল হয়েছে। আমরা সংঘাত চাইনি, তবু এই নির্বাচনটি আমাদের জন্যে দুঃস্বপ্নের মত এসেছে।

 

ওই নারী আরও জানান, পুলিশ বিজিবির গুলি বর্ষণের পরেই অনেকে গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে। তবে মামলা হওয়ার পর থেকে ভয়ে প্রায় পুরুষ শূন্য হয়ে গেছে গ্রামটি। আমরা নারীরাও ভয় পাচ্ছি। নিজেদের নিয়ে আটকের শঙ্কায় আছি। তবে বাড়িভিটার মায়ায় যেতে পারিনি।

 

তিনি বলেন, আমরাই মরলাম আবার আমরাই মামলার আসামি হলাম। স্বজন হারানোর ব্যথা আমাদের, সঙ্গে গ্রেপ্তারের ভয়ে আমাদেরকেই থাকতে হচ্ছে। আহত স্বজনের চিকিৎসার খরচ আমাদের নিম্ন আয়ে সম্ভব হচ্ছে না। পালিয়ে থাকার কারণে খাবারের জন্যে অর্থ উপার্জন বন্ধ হয়ে গেছে। এখন শান্তির জীবনের আশাও ভুলে যেতে হচ্ছে।

 

পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, থানা পুলিশ বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা ৬০০/৭০০ জনের নামে মামলা হয়েছে। এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

ও/এফ
 

Ads