রাড্ডা হামলায় এমপির কথিত ভূমিকা নিয়ে তদন্ত চলছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম


রাড্ডা হামলায় এমপির কথিত ভূমিকা নিয়ে তদন্ত চলছে

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার মিরপুর-১ এলাকায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর, লুটপাট ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, তদন্তে কারও সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলার ঘটনায় একজন সংসদ সদস্যের নাম আসার বিষয়ে জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

তিনি বলেন, স্থানীয় থানার একজন পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ওই ঘটনায় কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই। হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের কারও রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেও তা বিবেচনায় নেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদের বিষয়ে তিনি বলেন, একজন সংসদ সদস্য ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

এদিকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ভেঙে ফেলার পর ঘটনাস্থলে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামের একটি সাইনবোর্ড ও ব্যানার টানানো হয়েছে। ওই সমবায় সমিতির কার্যক্রমের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার তথ্যও সামনে এসেছে।

স্থানীয়ভাবে এসব নেতাকে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হামলার ঘটনায় নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন ফেরদৌসী আহমেদ।

গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নিম্নআয় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা চালানো হয়। পরে একটি খননযন্ত্র দিয়ে কেন্দ্রটির স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। এতে একটি স্থায়ী ও তিনটি অস্থায়ী ভবন ধ্বংস করা হয়েছে।

ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে শাহ আলী থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলায় ঢাকা উত্তর সিটি বিএনপির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ হানিফ মিয়াকে প্রধান আসামি করে আরও ২৫০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

Ads