আগামী দুই মাস নিরবচ্ছিন্ন এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করেছে পেট্রোবাংলা
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রীয় জ্বালানি সংস্থা পেট্রোবাংলা অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে দেশে সরবরাহের জন্য ১৯টি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কার্গো সংগ্রহ নিশ্চিত করেছে। এর ফলে শরৎকালীন সময়ে দেশে গ্যাস সরবরাহে ঘাটতির আশঙ্কা থাকবে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্র জানায়, অক্টোবর মাসে ১০টি এবং নভেম্বর মাসে আরও ৯টি এলএনজি কার্গো দেশে আসবে। জাতীয় গ্যাস পাইপলাইন নেটওয়ার্কে সরবরাহের চাপ স্বাভাবিক রাখতে এসব কার্গো আমদানি করা হচ্ছে।
মন্নান বলেন, আগামী তিন মাসের প্রয়োজনীয় এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে। এর ফলে এলএনজি সরবরাহের কারণে গ্যাস সংকটের ঝুঁকি থাকবে না।
জ্বালানি বিভাগের তত্ত্বাবধানে পেট্রোবাংলা প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করে। সংস্থাটির সহযোগী প্রতিষ্ঠান রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) আমদানি চুক্তি, কার্গো সূচি নির্ধারণ এবং টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে।
অক্টোবরে আমদানির জন্য নির্ধারিত ১০টি কার্গোর মধ্যে তিনটি স্পট মার্কেট থেকে, দুটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এবং পাঁচটি স্বল্পমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে সংগ্রহ করা হচ্ছে।
নভেম্বর মাসে ছয়টি কার্গো দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এবং তিনটি স্বল্পমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে দেশে আসবে। এসব কার্গোর এলএনজি যুক্তরাষ্ট্র, নাইজেরিয়া ও অ্যাঙ্গোলাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি বিশেষায়িত জাহাজে প্রায় ৩ দশমিক ২ মিলিয়ন এমএমবিটিইউ এলএনজি বহন করা হয়। ফলে দুই মাসে পরিকল্পিত মোট আমদানির পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৬০ দশমিক ৮ মিলিয়ন এমএমবিটিইউ।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) মিজানুর রহমান বলেন, স্পট মার্কেটের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে এলএনজি সংগ্রহ করায় সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পকারখানায় জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি হবে না।
বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহকারীদের মধ্যে রয়েছে কাতারভিত্তিক কাতারএনার্জি এবং ওমানভিত্তিক ওকিউ ট্রেডিং। ওকিউ ট্রেডিং স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতাতেও এলএনজি সরবরাহ করে। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে স্পট মার্কেট থেকেও এলএনজি সংগ্রহ করা হয়।
সমুদ্রবন্দরভিত্তিক এলএনজি টার্মিনালে পৌঁছানোর পর অতিশীতল তরল গ্যাসকে পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করা হয়। এরপর তা সরাসরি জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ করা হয়।
































