ঢাকার সাবরেজিস্টারদের পোস্টিংয়ে লটারি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ
০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৮ এএম
ঢাকার সাবরেজিস্টারদের বদলি ও পদায়নে তদবিরের সুযোগ কমাতে লটারি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। শনিবার রাজধানীর ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে অনলাইনে তালাক ও নিকাহ নিবন্ধন সফটওয়্যারবিষয়ক কর্মশালায় তিনি এ কথা জানান।
তিনি বলেন, ঢাকা শহরের সাবরেজিস্টাররা দীর্ঘদিন একই জায়গায় থাকায় তাদের বদলি করতে গেলে বিভিন্ন দিক থেকে তদবির আসে। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে ঢাকার মধ্যে সাবরেজিস্টারদের পোস্টিং লটারির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নিয়মনীতি অনুসরণ করেই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের তথ্য সংরক্ষণ এবং পর্যায়ক্রমে তা জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্টের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানান।
তিনি বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য সংযুক্ত করা হলে একজন ব্যক্তির বিভিন্ন তথ্য একটি ব্যবস্থার মাধ্যমে যাচাই করা সম্ভব হবে। এর ফলে বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ প্রতিরোধেও সহায়তা পাওয়া যাবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, কোনো ব্যক্তি এক জায়গায় বিয়ে করার পর তথ্য গোপন করে অন্যত্র আবার বিয়ে করতে চাইলে অনলাইনে তার আগের বিবাহের তথ্য দেখা যাবে। এতে পূর্ববর্তী স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া আরেকটি বিয়ে নিবন্ধনের বিষয়টি যাচাই করা সহজ হবে।
ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার স্ত্রী বা সন্তানদের পক্ষ থেকে একাধিক দাবি উঠলেও নিবন্ধিত তথ্যের মাধ্যমে তা যাচাই করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি। এতে এ ধরনের দাবি নিয়ে মামলা-মোকদ্দমার সুযোগ কমবে এবং রাষ্ট্রের ওপর চাপও কমবে বলে উল্লেখ করেন আইনমন্ত্রী।
বিদেশে থাকা বা বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও অনলাইনে সংরক্ষিত বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য কাজে আসবে বলে জানান তিনি। কোনো ব্যক্তি বিদেশে গিয়ে স্ত্রীকে সঙ্গে নিতে চাইলে সংশ্লিষ্ট দেশ অনলাইনের মাধ্যমে বিবাহের তথ্য যাচাই করতে পারবে।
অনলাইনভিত্তিক তথ্য ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় ঘুষ দাবির একটি ঘটনাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শরীয়তপুরের নড়িয়া থানায় একজন সাব-ইন্সপেক্টরের বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য প্রথমে ২ হাজার ২০০ টাকা এবং পরে ২ হাজার টাকা ঘুষ চাওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ৭০০ টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য অনলাইনে সংরক্ষিত হলে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম কমাতে সহায়তা করবে। ডিজিটাল ব্যবস্থাগুলো পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হলে এর দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া যাবে।
তিনি আরও বলেন, জন্মনিবন্ধন, এনআইডি ও পাসপোর্টের তথ্যের মধ্যে যে সংযোগ রয়েছে, একইভাবে পর্যায়ক্রমে বিবাহ নিবন্ধনের তথ্যও এনআইডি ও পাসপোর্টের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
একজন ব্যক্তির জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের তথ্য পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করার প্রক্রিয়া তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, জন্মের পর শিশুর জন্মনিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক। পরবর্তীতে ১৮ বছর বয়সে এনআইডি করার সময় জন্মনিবন্ধনের তথ্য প্রয়োজন হয়। আবার পাসপোর্ট করার ক্ষেত্রেও জন্মনিবন্ধন ও এনআইডির তথ্য প্রয়োজন হয়।
বিভিন্ন দেশে মানুষের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশেও এনআইডি নম্বরের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য সংযুক্ত করার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। বিবাহ নিবন্ধনের তথ্যও এনআইডি ও পাসপোর্টের সঙ্গে যুক্ত হলে একজন ব্যক্তির প্রয়োজনীয় তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে যাচাই করা সম্ভব হবে।






























