একুশের কবিতা
০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৫:০৬ পিএম
একুশ তুমি কথা বল।
বল আমার ভাইয়েরা যার জন্য রক্ত ঢেলেছিল
তার বিনিময়ে পেয়েছে কি ভাষাতত্ত্বের আসল চাওয়া।
বল আমরা কি বাংলা ভাষাকে আসল পরিচয় দিয়ে
মূল্যায়ন করতে পেরেছি? হয়েছি ভাষা জ্ঞানে নিজে মূল্যায়িত?
পেরেছি কি সেই রক্তের দাম দিতে? বলো?
বাংলা ভাষা আমার মায়ের ভাষা, আমার মুখের ভাষা।
এ ভাষা জন্ম থেকে জন্মান্তরে রক্ষা করবার জন্য,
সালাম বরকত রফিক শফিক জব্বার,
ওরা রাজপথ রক্তে রাঙিয়েছিল
পশ্চিম পাকিস্তানের স্বৈরাচারী সরকার তাদের ভাষা-
উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা বলে ঘোষণা করলে-,
তাদের দাবীর উপর প্রতিবাদের ঝড় তোলে
অবাধ মিছিল দিয়েছিল তাই আমার ভাইয়েরা।
শ্লোগান সুরে বলেছিল ‘মাতৃভাষা বাংলা চাই,
রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই, বাংলা চাই।’
বলেছিল ‘বাংলা ছাড়া অন্য ভাষা মানবো না, মানবো না।’
আর তারই অপরাধে পশ্চিমা শকুন স্বার্থবাদীগুলো
আমার ভাইদের রক্তে রাজপথ রক্তাক্ত করেছিল।
সেই পবিত্র নিষ্কলঙ্ক খুনের বিনিময়-
আমার মুখের ভাষা, বাংলা ভাষা।
এ ভাষার গর্ব ও গৌরব অনেক।
কিন্তু আমরা কি সেই ভাষাকে প্রকৃত মূল্যায়ন করতে পেরেছি?
শহীদের আত্মার যাতে শান্তি পায় সেই প্রচেষ্টা যুগিয়েছি?
জানি এ আমাদের অপরাধ, আমাদের দুর্বলতা।
আমরা ক্ষমা চাই, -হে বাংলা আজ এ সুমহান দিনে
তুমি আমাদের ক্ষমা কর।
আমরা তোমাকে ফুলের তোড়াতে সাজিয়ে বরণ করতে এসেছি,
কর্তব্য পালন করতে এসেছি নিজের অপরাধ স্বীকার করে।
ফিরিয়ে দিওনা, আশীর্বাদ দিয়ে আমাদের ধন্য কর ক্ষমার বিনিময়ে।
হে মহিয়ান মুখের ভাষা ফিরিয়ে দিও না,
কেননা, আমরাও যে তোমারই এ সোনার দেশের-
নাগরিকতার দাবীদার! সন্তান।
তোমায় গলায়, ফুলের তোড়া দুলিয়ে- আমরা ধন্য হব।






















