নাসিকে ধানের শীষের পক্ষে গণরায় দেবে জনগণ
২১ ডিসেম্বর ২০১৬, ০৮:৩২ পিএম
সরকারের নানা অনিয়ম দুর্নীতি ও দুঃশাসনের প্রতিবাদের অংশ হিসেবেই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে গণরায় দেবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বুধবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, রাষ্ট্রীয় অনাচারের তীব্র কশাঘাতে বেদনার্ত মানুষ তাদের প্রতিবাদের অংশ হিসেবে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) নারায়ণগঞ্জে ভোটাররা ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে বিপুল ভোটে বিজয়ই করবে। দুঃশাসনের বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক ভোট বিপ্লব ঘটবে। কোনো বাধাই ধানের শীষের জোয়ার ঠেকাতে পারবে না।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভোট বর্জনের প্রশ্নই আসে না। নাসিক নির্বাচনে বিএনপি শেষ পর্যন্ত থাকবে-এটাই সিদ্ধান্ত।
তিনি বলেন, রাত পোহালেই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনের ভোট। দৃশ্যত, এখনো পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশ ভালো থাকলেও জনমন থেকে অস্বস্তি ও শঙ্কা দূর হয়নি।
তিনি আরো বলেন, আজকে পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনী পরিবেশ বাহ্যিক দৃষ্টিতে শান্তিপূর্ণ থাকলেও ভয় ও নির্ভয়ের সংশয়ের দোলাচলে মানুষ ভুগছে। সব ধরনের নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের নিকট অতীত যেহেতু সুখকর নয়, সেহেতু মানুষের মধ্যে কিছুটা সংশয় থাকলেও, এই সংশয়ের মধ্যেও আগামীকালের নির্বাচনের দিন নারায়ণগঞ্জের ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বিএনপির নেতা বলেন, আমরা বিভিন্ন সূত্র থেকে জানতে পারছি যে, সিটি করপোরেশন এলাকার আশপাশে শাসক দলের ক্যাডাররা নাকি অবস্থান করবে। প্রত্যক্ষ না হলেও পরোক্ষ কায়দায় নির্বাচনের দিন তারা বিভিন্নভাবে তাদের প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করবে। ইতোমধ্যে কিছু কিছু এলাকায় তাদের আনাগোনার খবরও আমরা পাচ্ছি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি এখনো দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে-আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট গ্রহণ চলার সময় সরকারের প্রভাব বিস্তারের কোনো অপতৎপরতা দেখা গেলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে ভোটকে শান্তিপূর্ণ করবে নির্বাচন কমিশন।
আগামীকালের ভোট নিয়ে কোনো ধরনের কারসাজি হলে নারায়ণগঞ্জের সাহসী ভোটাররা তা মোকাবিলা করবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন রিজভী।
তিনি বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন তাদের সাবেক অবস্থান থেকে সরে আসবে এবং মানুষকে নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি করবে। বিএনপি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী, নির্বাচন কমিশনের শেষ বেলায় একটা অবাধ, শান্তিপুর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
ইসির উদ্দেশে তিনি আরো বলেন, আমরা দলের পক্ষ থেকে আবারো নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানাতে চাই-নির্বাচনের দিন প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলানোর জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে।
তিনি বলেন, সব প্রার্থীর পোলিং এজেন্টরা নির্বিঘ্নে দায়িত্ব পালন এবং ভোট গণনার সময় পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। আমরা নির্বাচন কমিশনকে আরো আহ্বান জানাতে চাই-সকল পোলিং এজেন্টকে দৃষ্টিসীমার মধ্যে অতিরিক্ত খালি ও ব্যালট পেপার ভর্তি বাক্সগুলো রাখা ও ভোট গণনার সময় ব্যালট পেপার ভর্তি ব্যালট বাক্সগুলো উন্মুক্ত করতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নেতা আব্দুল কাউয়ুম, আবদুস সালাম, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, সেলিম ভুইয়া, আসাদুল করিম শাহীন, মুনির হোসেন, আব্দুল আউয়াল খান, হারুন অর রশিদ, খন্দকার আবু আশফাক প্রমুখ।



































