টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজনে আগ্রহী পাকিস্তান
১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম
ছবি- সংগৃহীত
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে এক অদৃশ্য ঝড় বইছে। আর সেই ঝড়ের কেন্দ্রে একজনই, মোস্তাফিজুর রহমান। বাঁহাতি কাটারের জাদুকরকে ঘিরেই এখন ভারত-বাংলাদেশ-আইসিসির ত্রিমুখী টানাপোড়েন। ক্রিকেট আর রাজনীতির সীমারেখা মুছে গিয়ে তৈরি হয়েছে এক রোমাঞ্চকর বাস্তবতা। ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ম্যাচ। এই বিষয়টি নিয়েই যখন জট খুলছে না, ঠিক তখনই দৃশ্যপটে নতুন মোড়। বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজন করতে চায় পাকিস্তান। হ্যাঁ, উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এগিয়ে এসেছে বিকল্প ভেন্যু হিসেবে।
সবকিছুর শুরু আইপিএল থেকে মোস্তাফিজের বাদ পড়া নিয়ে। রাজনৈতিক ও ধর্মীয় চাপের মুখে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে কেকেআর যখন মোস্তাফিজকে বাদ দেয়। ঠিক তখনই দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কের ভিত নড়বড়ে হয়ে যায়। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকার দেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়। আর বিসিবি নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে। মোস্তাফিজ তখন আর শুধু একজন ক্রিকেটার নন, তিনি হয়ে ওঠেন জাতীয় মর্যাদার প্রতীক।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বিসিবি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে নিতে। ইতোমধ্যে আইসিসিকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে একাধিক ই-মেইল পাঠানো হয়েছে, যেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা। কিন্তু সেই মেইলের জবাব এখনো আসেনি। আইসিসির নীরবতা অনিশ্চয়তাকেই আরও ঘনীভূত করছে।
ঠিক এই ফাঁকে বিস্ফোরক খবর—বাংলাদেশের ম্যাচগুলো আয়োজন করতে আগ্রহী পাকিস্তান। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও সুপারের দাবি অনুযায়ী, পিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসিকে জানিয়েছে, শ্রীলঙ্কায় ভেন্যু না মিললে তারা প্রস্তুত। আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম, সাম্প্রতিক চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও আইসিসি নারী কোয়ালিফায়ার সফলভাবে আয়োজনের অভিজ্ঞতা, সব মিলিয়ে আত্মবিশ্বাসী পাকিস্তান।
নিরাপত্তা শঙ্কা আর জাতীয় আত্মসম্মানের প্রশ্নে বিসিবির অনড় অবস্থান আইসিসিকে ফেলেছে চরম দুশ্চিন্তায়। সমাধানের খোঁজে আজই বিসিসিআই কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসার কথা আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহর। কিন্তু ঠিক সেই সময় পিসিবির আগ্রহ পুরো সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে।
পূর্বনির্ধারিত সূচিতে বাংলাদেশের প্রথম তিন ম্যাচ কলকাতায়, শেষ ম্যাচ মুম্বাইয়ে—সবই এখন প্রশ্নবিদ্ধ। ভেন্যু কি বদলাবে? দেশ কি বদলাবে? নাকি বদলে যাবে পুরো গল্পটাই?




























