পদত্যাগ করলেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ভুসিচ
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন সরকারবিরোধী আন্দোলনের মধ্যে পদত্যাগ করেছেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকসান্ডার ভুসিচ। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। তাঁর পদত্যাগের ফলে দেশটিতে আগাম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পথ খুলেছে।
রাজধানী বেলগ্রেডে প্রেসিডেন্ট ভবনের সামনে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে ভুসিচ বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর শেষ দিন এটি। তিনি জানান, পরদিন পার্লামেন্টের স্পিকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন।
ভুসিচের পদত্যাগের পর পার্লামেন্টের স্পিকার আনা ব্রনাবিচ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন। সার্বিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ৯০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। ভুসিচ জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফা অনুষ্ঠিত হবে।
আগামী ২৫ অক্টোবর সার্বিয়ায় আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ার পর ভুসিচ তাঁর দল সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টির (এসএনএস) হয়ে ওই নির্বাচনে অংশ নেবেন এবং দল সরকার গঠন করতে পারলে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
ভুসিচের পদত্যাগের পেছনে দীর্ঘদিনের ছাত্র আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হিসেবে এসেছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে নোভি সাদ শহরের একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে দুর্নীতি ও সরকারি অনিয়মের অভিযোগের প্রতিবাদে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়।
বিক্ষোভকারীদের অন্যতম দাবি ছিল আগাম নির্বাচন। প্রায় দুই বছর ধরে চলা আন্দোলনের মধ্যে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দেশটির রাজনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি করে। পুলিশি আচরণ নিয়েও আন্দোলনকারীদের অভিযোগ রয়েছে; তবে সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে ভুসিচের দ্বিতীয় ও শেষ পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল আগামী বছর। ২০১৭ সালে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তিনি এবং ২০২২ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে জয়ী হন।
আসন্ন পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভুসিচের এসএনএসের মুখোমুখি হবে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম ‘স্টুডেন্টস উইন’ এবং পশ্চিমাপন্থি বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইউরোপিয়ান সার্বিয়া’।
পররাষ্ট্রনীতিতে ভুসিচ দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের লক্ষ্য বজায় রাখার পাশাপাশি রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ধরে রেখেছেন।



































