উগ্রবাদ নির্মূলে সমন্বিত প্রচেষ্টাকে কাজে লাগাতে খালেদার আহ্বান

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

০২ জুলাই ২০১৬, ০৭:০৪ পিএম


উগ্রবাদ নির্মূলে সমন্বিত প্রচেষ্টাকে কাজে লাগাতে খালেদার আহ্বান

।। প্রতিদিনের চিত্র ডেস্ক ।। গুলশানে দুস্কৃতিকারিদের নিমর্ম রক্তাক্ত অভ্যূত্থান দেশের বিরাজমান দুঃশাসনেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

আজ শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এদিন দুপুরে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার বিবৃতিটি সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন।

বিবৃতিতে খালেদা জিয়া বলেন, সরকার প্রকৃত জঙ্গি দমনে কোনো ধরনের ইতিবাচক তৎপরতা দেখানো তো দূরে থাক, বরং বিএনপিকে অভিযুক্ত করতে ব্লেমগেম খেলতে গিয়ে সরকার জঙ্গিদের স্বাস্থ্যবর্ধন করেছে।

তিনি বলেন, আমি আবারো সরকারের প্রতি আহবান জানাচ্ছি-এই নিষ্ঠুর বিবেকবর্জিত গণতন্ত্র ও সভ্যতা বিরোধী উগ্রবাদী শক্তিকে নির্মূল করতে দলমত নির্বিশেষে সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টাকে কাজে লাগাই। সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় এখনই এই উগ্রবাদী শক্তিকে দমন করতে না পারলে এরা দীর্ঘতম যুদ্ধ চালিয়ে দেশের জনগণের শান্তি, সুস্থিতি, নিরাপত্তা বজায় রাখা কঠিন করে তুলবে।

গতকাল (শুক্রবার) রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে বন্দুকধারী সন্ত্রাসীরা কয়েকজন বিদেশি নাগরিকসহ অন্তত: বিশজনকে জিম্মি করে বাংলাদেশের ইতিহাসে রক্তাক্ত পরিস্থিতি তৈরি করার নজিরবিহীন ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

বিবৃতিতে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, গতরাত থেকে শুরু হয়ে আজ সকাল পর্যন্ত দুস্কৃতিকারিদের কর্তৃক সংঘটিত প্রাণবিনাশী ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, কিছু দিন আগে জঙ্গি দমনের নামে সরকারি অভিযানের যে ভয়াবহ রুপ জনগণ দেখলো, তাতে আমরা তখনই বলেছিলাম- সরকারের এই নৃশংস ক্র্যাকডাউন বিএনপি’র বিরুদ্ধে ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে ধ্বংস করার জন্য। এতো কিছুর পরও জঙ্গিদের বিবেকবর্জিত অপতৎপরতা থামাতে পারেনি সরকার।

তিনি বলেন, গণমাধ্যম ও সংবাদ কর্মীদের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নানা নিপীড়ণমূলক ব্যবস্থা জারি রেখে গণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে গিয়ে দেশে অমানবিক সভ্যতা বিধ্বংসী শক্তির উত্থান ঘটেছে। দেশে বিদ্যমান বহুমাত্রিক স্বৈরতান্ত্রিকতার কারণেই আনাচে কানাচে উগ্রবাদ বাসা বেঁধেছে।

বিবৃতিতে খালেদা জিয়া আরও বলেন, দেশের নিরাপত্তা বাহিনীসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার যেসমস্ত সদস্যরা অটুট মনোবল ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই রক্তাক্ত জিম্মি ঘটনাকে মোকাবেলা করেছেন সেজন্য আমি দেশবাসী ও আমার দলের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। পাশাপাশি গতরাতের রক্তাক্ত ঘটনায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভাইয়েরা যারা নিহত হয়েছেন তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন এবং আহতদের আশু সুস্থতা কামনা করছি।

গুলশানে সংঘটিত সন্ত্রাসী ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী ও কুটনীতিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি তাদের নিরাপত্তা বিধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।

তিনি বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, এই সহিংস ঘটনায় জড়িত প্রকৃত দুস্কৃতিকারিদের শাস্তি দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর হবে এবং এদের নেটওয়ার্ক খুঁজে বের করে তা নির্মূল করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সক্ষম হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, আব্দুস সালাম আজাদ, তাইফুল ইসলাম টিপু, আমিনুল ইসলাম, আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী উপস্থিত ছিলেন।

Ads