দেশ এবং বিদেশে আমার নামে চাঁদা তোলা হচ্ছে: রিজভী
১৪ মার্চ ২০১৬, ০৫:১৬ পিএম
প্রতিদিনের চিত্র ডেস্ক :: আজ সোমবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ন মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেন, কাউন্সিল নিয়ে দেশ এবং বিদেশে বিএনপির নেতা-কর্মীদেরকে ফোন করে তার নাম দিয়ে চাঁদা তোলা হচ্ছে।
রিজভী বলেন, দেশ-বিদেশে আমার নাম দিয়ে কাউন্সিলের কথা বলে ০১৭১১১৯০০০৪, ০১৭৬৪৭৪৬৬৬১ নাম্বারসহ কয়েকটি নাম্বার থেকে ফোন করে চাঁদা তোলা হচ্ছে।
এর আগে আমাদের নেতা গয়েস্বর চন্দ্র রায়ের নাম ব্যবহার করেও চাঁদা চাওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কারো কাছে যদি ওই নাম্বারগুলো থেকে ফোন আসে তাহলে আপনারা তাদেরকে পুলিশে ধরিয়ে দিন।
ইউপি নির্বাচনে অংশ নেওয়া দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের বাড়ি-ঘরে ক্ষমতাসীনরা হামলা চালাচ্ছে অভিযোগ করে এর তীব্র নিন্দা জানান বিএনপির এই নেতা।
দুর্নীতির কারণে দেশ ধ্বংসের পথে অভিযোগ করে তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, জাতি জানতে চায় এ দুর্নীতির শেষ কোথায়?
তিনি বলেন, কেন্দ্রীভূত স্বৈরতন্ত্রের প্রতিভু শেখ হাসিনা, কথা বলার স্বাধীনতাকে শিকল পরিয়েছেন, যারা সত্য অকপটে উচ্চারণ করেন তাদেরকে অপরাধী সাজিয়ে তাদেরকে রাষ্ট্রদ্রোহী তকমা দাগিয়ে দিচ্ছেন।
রিজভী বলেন, আজকে কেন জনগণের টাকা হ্যাকিংয়ের নামে চুরি হচ্ছে, পাচার হয়ে বিদেশে চলে যাচ্ছে, তার কারন হলো-যখন অর্থমন্ত্রী বলেন-হলমার্ক কেলেঙ্কারীর চার হাজার কোটি টাকা বড় অংকের অর্থ নয়। এরই ধারাবাহিকতায় অর্থমন্ত্রী বলেছেন-কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের টাকা চুরি যাওয়ার বিষয়ে কিছুই জানি না। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক আমাকে কিছুই জানায়নি। আমি বিষয়টি পত্রিকায় পড়েছি।
এবারেও অর্থমন্ত্রী বলেছেন-৮০০ কোটি টাকা হ্যাক করার কথা তিনি কিছু জানেন না। যে সরকার গৃহস্থের বদলে চোরকে নিরাপদ রাখতে বেশী ব্যস্ত থাকে তারা তো কিছুই জানবে না। এই জন্যই দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য একবার বলেছিলেন-বর্তমানে সম্পদের ও জীবনের নিরাপত্তা হুমকির মুখে, যা সঞ্চয় ও ভোগ কাঠামোতে প্রভাব ফেলবে। এ অবস্থায় অর্থ পাচারের প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে। এখন সেই প্রবণতা ভয়াবহ রুপ ধারণ করেছে।
রিজভী বলেন, আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র পক্ষ থেকে অবিলম্বে চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধার ও এর সাথে জড়িতদের শাস্তি দাবি করছি। শুধুমাত্র অর্থমন্ত্রী এবং গভর্নরের পদত্যাগেই বাংলাদেশের পরিত্রাণ মিলবে না, এদের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের মাধ্যমেই দেশ, মানুষ ও গণতন্ত্রের মুক্তি নিশ্চিত হবে।
এছাড়া, বর্তমান সরকারের শাসনামল মানেই সাধারণ মানুষ না খেয়ে থাকাও বলে মন্তব্য করেন তিনি।


































