সকল পুরস্কার ও অর্জন বাংলার মানুষের : প্রধানমন্ত্রী
০৬ অক্টোবর ২০১৫, ১২:০৭ এএম
প্রতিদিনের চিত্র ডেস্ক :: বাংলাদেশের মানুষের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আজ বাংলাদেশ বিশ্বসভায় মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে। আমার যত পুরস্কার, যত অর্জন সবই বাংলার মানুষের জন্য। তিনি বলেন জনগনের বিশ্বাস এবং ভালবাসা আসে বলে আমাদের এই অর্জন।
পরিবারের সবাইকে হারিয়ে বাংলার মানুষের মাঝে বাবা-মায়ের স্নেহ, ভাইয়ের ভালোবাসা পেয়েছেন বলে উল্লেখ করে তার সব অর্জন, সব পুরস্কার বাংলার মানুষকে উৎসর্গ করে দেন প্রধানমন্ত্রী।
জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়ন অব দি আর্থ’ পদক এবং তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক ‘আইসিটি সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ নাগরিক সংবর্ধনা দেয় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন।
শেখ হাসিনা ‘চ্যাম্পিয়ন অব দি আর্থ’ ও ‘আইসিটি সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ পুরস্কার পাওয়ায় বাংলার জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন। তিনি তার বক্তব্যে এই দুই পুরস্কার দেশের জনগণকে উৎসর্গ করেন। একই সঙ্গে তাকে সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য অংশগ্রহণকারী শিশুসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে এবং অতিথিদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
এদেশের মানুষের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ বাংলাদেশ বিশ্বসভায় মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্বসভায় বাংলাদেশের মানুষ মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।
লাখো শহীদের রক্তে পাওয়া দেশ আর বিজয়ী জাতি মাথা নিচু করে চলবে, তা হতে পারে না। তারা বিশ্বসভায় মর্যাদার আসন পাক সেটাই চাই। তারা মাথা গোঁজার ঠাঁই পাবে না, অন্ন পাবে না, তা হতে পারে না। তাই যে চেতনা নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, সেই গরিব কৃষক মেহনতি মানুষ উন্নত জীবন পাবেন, সেটাই আমার লক্ষ্য।
কারও কাছে হাত পেতে নয়, কারো মুখাপেক্ষী হয়ে নয়, এদেশের মানুষ হবে সব দিক দিয়ে স্বাবলম্বী বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, শুধু পুরস্কারের জন্য বা পুরস্কার অর্জন করেই আমরা বসে থাকিনি। সীমিত সম্পদ দিয়েই আমরা সবুজ সোনার বাংলাদেশকে সবুজ রাখতে নিজেরাই কার্যক্রম শুরু করেছি। একদিকে পরিবেশ রক্ষা, অন্যদিকে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যাচ্ছি আমরা। কারণ, আমার দেশের পরিবেশ রক্ষা করতে হবে। পাশাপাশি দেশকে উন্নত করতে হবে।
তিনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবেলায় খরাসহিষ্ণু ধানসহ বিভিন্ন গবেষণার ওপর জোর দিয়েছি। নদী-নালা রক্ষায় কাজ চলছে। সেই সঙ্গে নদীর নাব্যতা রক্ষা করে আমিষ উৎপাদন অর্থাৎ মাছের উৎপাদন বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছি। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে কাজ করছি। ডিজিটাল বাংলাদেশ করার ঘোষণা দিয়েছি। প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। উন্নয়ন করতে গেলে পরিবেশের ক্ষতি হয়। কিন্তু পরিবেশকে রক্ষা করে ভারসাম্য রক্ষা করে এবং মানুষ যাতে সুন্দরভাবে বাঁচতে পারেন- সে লক্ষ্য নিয়েই আমরা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের দিনে প্রতিজ্ঞা করছি, ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত এবং আজকের শিশুদের জন্য একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে যাবো। এটাই আমার প্রতিজ্ঞা। আমার বাবা এদেশের মানুষকে গভীরভাবে ভালোবেসেছিলেন। তাকেও ভালোবেসেছে এদেশের মানুষ। আর স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে যখন দেশে ফিরলাম, তখন দেশের মানুষ আমাকেও ভালাবেসেছে। তাদের জন্য সোনার বাংলা আমরা গড়ে তুলবো। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে বলে আবারও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সরকারপ্রধান।



































