বিএনপিকে নিয়ে আওয়ামী লীগের ভাবনা

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

০১ নভেম্বর ২০১৫, ০৮:৪৪ পিএম


বিএনপিকে নিয়ে আওয়ামী লীগের ভাবনা

প্রতিদিনের চিত্র, ঢাকা :: শমসের মবিন চৌধুরীর পদত্যাগে আওয়ামী লীগের মধ্যে কৌতুহল দেখা যাচ্ছে। কারন কোন রাজনীতিবীদদের পদত্যাগের একটি নির্ধারিত সময় অতিক্রম না হওয়ার আগে তার পদত্যাগে দলের মধ্যে এই কৌতুহল। আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দের মন্তব্য, শমসের মবিন চৌধুরীর পদত্যাগে বিএনপি বৃহত্তম দলটি শীঘ্রই ভাঙ্গনের সম্ভাবনা রয়েছে।

আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দের বিভিন্ন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বিএনপির ভাষ্য, আওয়ামীলীগ নির্বাচন বিহীন জোর পূর্বক ভাবে ক্ষমতায় এসেছিল বলে তাদের মনবল হালকা এজন্য তাদের দলের প্রত্যেকেই নগ্ন ও দেউলিয়া ভাবে নিজেদের প্রকাশ করছে এবং সাধারন বিষয়কে জটিল করে তুলছে। শমসের মবিন চৌধুরীর পদত্যাগে আওয়ামীলীগের মধ্যে এক ধরনের উচ্ছাস মুলতঃ আদর্শ বিহীন বিকৃতি দলের বহিঃপ্রকাশ বলে সনে করেন তারা।

বিএনপি’র বক্তব্য হচ্ছে, এত বড় দলের কে এলো কে গেলো তা ভাববার সময় তাদের নেই এবং শমসের মবিন চৌধুরীর পদত্যাগে বিএনপিতে কোন সংকট সৃষ্টি হবেনা বলে তাদের বিশ্বাস।  এছাড়া মবিন চৌধুরীর পদত্যাগে সরকারের মন্ত্রী-এমপি ও নেতাকর্মীরা যেভাবে বিএনপিকে নিয়ে তিরষ্কার মূলক কথা বলছে তা লজ্বাকর বলে মন্তব্য করেন অনেক বিএনপি নেতৃবৃন্দ।    

আওয়ামীলীগ নেতাদের স্বচ্ছ জ্ঞানের অভাব বলে ধারণা করেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন আওয়ামীলীগের উদ্দেশ্য মূলত বিএনপির মত বৃহত্তম দলটিকে ধ্বংস করে দেওয়া। বিএনপি দলীয় মন্দের যেকোন ব্যাপারে তাদের আনন্দের শেষ থাকেনা। বিএনপির কেউ মারা গেলে তারা আনন্দ উল্লাস করে আবার মৃত্যু পথযাত্রী কেউ বেঁচে গেলেও তারা আনন্দ করে। তারা ক্ষমতায় এসে নিজেদের মনগড়া কাজ করে চলেছে। ঠিকমত দেশ চালাতে পারছেনা, দেশের মানুষ শান্তিতে নিঃশ্বাস ফেলতে পারছেনা, সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে দেশ মাতাল, দেশের উন্নয়ন নিয়ে তাদের কোন ভাবনা নেই বিপরীতে অন্য দলের কোন দুঃখ জনক ব্যপারে ওরা আনন্দিত হয়। তিনি আরো বলেন, দেখুন একজন অর্ধেক রাজনীতিবিদ বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেছেন তাতে করে  তাদের কি খুশি এটি কোন সুস্থ রাজনীতি হতে পারেনা এবং এধরণের রাজনীতি করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

শমসের মবিন চৌধুরীর চাকরি শেষ করে তার অবসরের পর কি করে সময় কাটাবেন বুঝে উঠার আগে রাজনীতিতে সময় দেওয়ার কথা চিন্তা করেন পাশাপাশি তিনি বৃহত্তম দল বিএনপি বেছে নিয়েছিলেন। বিএনপি দল প্রতিষ্ঠায় মবিন সাহেবের পরিশ্রমের ঘাম ঝরেনি বিধায় যেভাবে আসছিলেন ঠিক ওভাবে চলে গেলেন। তবে, এটাও হতে পারে শারিরীক অসুস্থতা এবং বয়সের কারণে তিনি বিএনপি থেকে পদত্যাগ করতে পারেন। গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরো বলেন, মোবিন সাহেব সুস্থ হয়ে আবার হয়ত বিএনপিতে ফিরে আসতে পারেন দলের কঠিন প্রয়োজনে।

সরকারসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে বিশেষ করে জাগৃতি প্রকাশনীর মালিক ফয়সাল আরেফিন দীপক ও দুই বিদেশি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আওয়ামী লীগকে বিপদে ফেলতে চায় বিএনপি-জামায়াত। শিয়া সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনাও একই সূত্রে গাঁথা বলে মনে করছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। তাদের মতে, আগামী ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দ্বিতীয় বার্ষিকীকে ঘিরে এ ধরনের তৎপরতা চালাতে পারে। লক্ষ্য, যে কোনো মূল্যে মধ্যবর্তী নির্বাচনে সরকারকে বাধ্য করা। এ জন্যই বিএনপি-জামায়াত ক‚টনৈতিক মহলেও লবিস্ট নিয়োগ করছে। উদ্দেশ্য, সরকারকে বেকায়দায় ফেলা। এ জন্যই বিএনপি-জামায়াতকে চাপে রাখার কৌশল গ্রহণ করছে সরকার।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, শমসেরের পদত্যাগ নিয়ে আওয়ামী লীগ বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তিনি স্বাস্থ্যগত কারণে রাজনীতি থেকে অবসর নিয়েছেন। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের আনন্দিত হওয়ার কোনো কারণ দেখি না। যারা যা ভাবে, তারা সেটাই বলতে পছন্দ করে। এটা যদি তাদের (আওয়ামী লীগ) নেতাদের স্বপ্ন হয়, তাহলে আমি বলব, সেটা দুঃস্বপ্ন। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু বলেন, আওয়ামী লীগ যেহেতু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসেনি, তাই তাদের সবকিছুতেই আস্থা ও বিশ্বাসের অভাব রয়েছে। সামান্য কোনো ঘটনাকেই তারা বড় করে দেখে। শারীরিক অক্ষমতায় একজন মানুষ অবসরে গেছেন, এ ঘটনাকে নিয়ে আওয়ামী লীগ যেভাবে উল্লাস প্রকাশ করছে, তা কাম্য হতে পারে না|

Ads